[ডিসক্লেইমারঃ ইহা একটি অত্যন্ত দীর্ঘ লেখা, আপনার বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে। অধিকন্তু ইহা নিতান্তই ব্যক্তিগত এবং নির্দিষ্ট গুষ্টীয় লেখা। সুতরাং পড়লে নিজ দায়িত্বে পড়ার অনুরোধ করছি। পড়ে মেজাজ খারাপ হলে কোনভাবেই আমাকে অভিযুক্ত করা যাবে না।]গতকাল নাইট এর পরের দিন হিসেবে অফ ছিলো।
তাই সকালে অফিস থেকে এসে আচ্ছামত একটা ঘুম দিয়েছি। ঘুম ভেঙ্গেছে বিকেল প্রায় সাড়ে পাঁচটায়। এতক্ষন ঘুমালাম! একটু আশ্চর্য হয়ে স্বভাববশত মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখি সেটা বন্ধ হয়ে আছে! যাক মোবাইল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘুমটা চরম হয়েছে! :D
চার্জে দিয়ে মোবাইল অন করে বেশ কিছু এমসিএ পেলাম। রনি, আশীষ দা, রাকিবা, এহসান ভাই, মমিন ভাই, মোনতা ও রাজিব এর কল ছিলো! (বিখ্যাত হয়ে গেলাম নাকি! :S)। একে একে ব্যাক করা শুরু করলাম। তখন আবার দাদা'র ফোন। কথা হচ্ছে, রাকিবা বাড্ডা ও আমার এখানে আসতে চায় দাদা'র বাসা খূঁজতে কারণ বাসা খুঁজতে এলে নাকি আমি খাওয়াই। কারণ আগের দিন দাদা আসছিলো, ওরে হেভী খাওয়া দিছিলাম! এই ফাকে বলে নেই দাদাকে বর্তমান বাসা থেকে তাড়ায়ে দিচ্ছে; কেনো কে জানে! :) তো আমি বললাম ওয়েল্কাম, আসুক। কিন্তু একটু পরেই আবার দাদা বলে যে রাকিবা পল্লবীতে ডাকতেছে, ওর অফিসে। খাইছে! বাড্ডা থেকে পল্লবী, খবর আছে! একটু দ্বিধার পরেও রাজী হয়ে গেলাম। দাদা অফিস থেকে এসে গুলসান-১ এ অপেক্ষা করবে; আমি বাসা থেকে ১ নাম্বার এ যাবো। প্রায় আধ ঘন্টা পর আবার দাদার ফোন। সে অপেক্ষা করতেছে ১ নাম্বার এ, আমার কোন খবর নাই! এদিকে আমি তখন খেতে বসেছি মাত্র। এখানে বলে রাখি উপরোক্ত কথাগুলো যখন হচ্ছিলো তখন আমি মাত্র ঘুম থেকে উঠেছি, খাইনি এবং গোসলও করি নি। সুতরাং আমার একটু সময় লাগবে স্বাভাবিক। :| তখন ওরে আমার এখানে চলে আসতে বললাম; এখান থেকে যাওয়া যাবে। ফোন রেখে ভাবলাম, এবার একটু আরাম আয়েশ করে নড়া চড়া করা যায়, দাদা তো এখানে আসতেছেই! :)
একটু পরে দাদা আসলো। তার কিছুক্ষন পরে ও বলে, চলেন মোহাম্মদপুর যাই। আমি তো আরো রাজী; মোহাম্মদপুর আরো কাছে প্লাস মোহাম্মদপুর এর বিখ্যাত চাপও খাওয়া যেতে পারে। অনেকদিনের লোভ! :) যাকগে, আমি রেডী হচ্ছি এই ফাকে আশীষ রাকিবার সাথে কথা বলে মাঝখানে জিয়া উদ্যান কে মিটিং প্লেস হিসেবে ঠিক করলো কারণ ও পল্লবী থেকে আসবে।
আমরা বের হলাম।
সিএনজি নিয়ে রওনা দিলাম। যেতে যেতে হবি, সুকান্তি, পিযুষ, মনিকে ফোন দেয়া হলো। এদের মধ্যে মনি ফোন ধরলোও না, ব্যাকও করলো না। আশীষ বলল ওর নাকি মিটিং ছিলো। যাহোক, পৌছালাম জিয়া উদ্যান এর সামনের রাস্তায়। সংসদ ভবনের ঠিক পিছনেই যে হাফ ওয়ালটা তাতে বসলাম। আহ, যা বাতাস! কী ঠান্ডা পরিবেশ! কিন্তু একটু পরে একটা বেরসিক পুলিস এসে তুলে দিলো! :( এখানে নাকি বসা যায় না!
কী আর, রাস্তার উলটা পাশে গিয়ে বসলাম। পাশে একটা জুটি। অল্প কিছুক্ষন পরেই তারা উঠে গেলো! আমি ভাবলাম আমাদের কারনে বিরক্ত হলো নাকি! আশিষ দার অবশ্য ভিন্ন মত; পোলাপান এখন এত ভাল না যে আমাদের দেখে উঠে যাবে। :)
১০ টাকার ১০০ গ্রাম বাদাম কিনে নিয়ে খেতে খেতে শুরু করলাম অন্যদের জন্য অপেক্ষা। প্রথমে আসলো হবি। তার একটু পর সুকান্তি আর পিযুষ। ইতোমধ্যে অমিতাভকে বরাবরের মতই ফোনে তেল মারা হচ্ছিল আসতে রাজী করানোর জন্যে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে তেল দিয়ে ওরে আসতে রাজী করা গেলো। ততক্ষনে রাকিবাও চলে এসেছে। গল্প গুজবে রাত প্রায় ৯.৩০ বেজে গেছে। আমি সারাদিন বলতে গেলে না খাওয়া! :( এম্নিতেই মোহাম্মদপুরের চাপ আমাকে ডাকতেছিলো, তার উপর হবি আবার স্টার এর ফালুদা খাওয়ার কথা বলছিলো!! সো, ওখানে বসে কি আর বাদাম চিবানো যায়! :)
হাটা শুরু করলাম মোস্তাকিম এর উদ্দেশ্যে। মোহাম্মদপুরবাসীদের মত, মোস্তাকিম এরই চাপ নাকি বিখ্যাত! মেইন রোড থেকে রিকশা নিয়ে পৌছালাম মোস্তাকিম এ। একটু পরে অমিতাভ এসে উপস্থিত। রিকশা থেকে নেমেই তার সে কি ঝাড়ি আর ফাপর! কিন্তু পাত্তা দেয় কে! টাইম আছে! :)
গিয়ে বসলাম ভিতরে। অর্ডার দেয়া হলো চাপ এর, সঙ্গে লুচি। পোলাপান যা খাচ্ছিলো! আমি এই প্রথম খাচ্ছি ওখানে; ভালোই লাগছিলো। ৭ জনে মিলে খেলাম ৯ টা চাপ [৫ টা খাসী, ৪ টা গরু] আর ১২২ টা লুচি!! খেয়ে বের হয়ে সামনের দোকান থেকে কয়েকটা স্পেশাল পান প্যাকেট করে নিলাম, কারণ এবার ফালুদা! ফালুদার আগে তো আর পান খাওয়া যায় না! :)
রাত বাজে প্রায় সাড়ে দশটা। অমিতাভ বলে, চলেন ঠাটারীবাজার স্টার। আমি বললাম ধানমন্ডি স্টার এ একটা ঢু দেই। আশিষ দা বলে এত রাতে ধানমন্ডি স্টার এ কিছু পাওয়া যাবে না। আল-মাহবুব আর কী যেন একটা আছে পাশে। রাকিবা বলল ওখানেও এত রাতে পাওয়া যাবে না। এদিক দিয়ে অমিতাভ আবার ভাত খাবে স্টার এ, হবি খাবে ফালুদা, সঙ্গে আবার সে অমিতাভ কে বিট করতে চায় বলে সেও ভাত খাবে; আর আমি তো আছিই যে, ফালুদা খাবোই আজকে। অগত্যা আর তো কোন উপায় নেই; ঠাটারীবাজার স্টারই সই!
কিন্তু রাকিবা আর সুকান্তি যাবে না। আর পিযুষ বলতেছিলো ভাই, আমারে বেশী জোর করিস না! আর যায় কই! সুকান্তি আর রাকিবা চলে গেল। আমরা বাকি ৫ জন হাটা দিলাম স্টার এর উদ্দেশ্যে!
এদিকে আবার আর একটা ঘটনা আছে বলে নেই। মোস্তাকিম এ ১ লিটার সেভেনআপ দিয়েছিলো একটা। ওইটা যখন শেষ তখন কোক/পেপসি চাইলাম আমরা। কিন্তু তারা কোক/পেপসি না পেয়ে আরসি নিয়ে আসলো। নিলাম না, আজকে কোক-ই খাবো! দরকার হলে এখান থেকে বের হয়ে বাইরেই খাবো। সেজন্যে যে ওয়ানটাইম গ্লাসগুলো দিয়েছিলো আমাদেরকে পানি/ড্রিঙ্কস খেতে তার কয়েকটা নিয়ে নিলাম পরে কোক খাওয়ার জন্যে। হে হে। হাটতে হাটতে সামনে এক দোকানে কোক পেলাম। এক্সপায়ার ডেট দেখতেছিলাম আমি, Jun3110, কিন্তু বলতেছিলাম ডেট তো পার হয়ে গেছে, আমার মাথায় কাজ করছিলো যে জ়ুন তো ছিলো গত মাসটা! দোকানী বোঝানোর চেষ্টা করছিলো যে পার হয় নাই কিন্তু আমি পুরা কনফিডেন্ট; বোতল রেখে দিয়েছি অলরেডী! এইসময় অমিতাভ না কে জানি এসে ডেট দেখে বলে যে, ঠিকি তো আছে! তারপরে আমার মাথায় খেলল যে আসলেই তো, আমিই ভুল করতেছিলাম! :( যাই হোক নিলাম। যারা গ্লাস নিয়ে আসছিলো, আমি বাদে অন্যদেরটা অলরেডী ভেঙ্গে ফেলেছে। সো, আমি গ্লাস এ ঢেলে নিয়ে আরাম করে খাওয়া শুরু করলাম! :D
যাই হোক, হাটতে হাটতে একটা ক্যাব পেলাম। কিন্তু সঙ্গে দুই দুইটা হাতি, এক ক্যাবে ওঠা এতই কী সহজ! আশীষ আর হবি সামনে বসলো, পিছনে আমি আর ২ হাতি! কিন্তু ড্রাইভার সাহেব সামনে ২ জন নিবেন না, তার নাকি গিয়ার দিতে সমস্যা হবে! অগত্যা সামনে বড় হাতি (আমিতাভ) কে দিয়ে পিছনে আমরা বাকি ৪ জন কোনরকমে বসে চললাম ঠাটারীবাজার।
স্টার এ ঢুকে আমরা (আমি আর অমিতাভ আগে ছিলাম) কাচঘেরা জায়গাটাতে হাত পা ছড়ায়ে বসছি মাত্র। কিন্তু বিধি বাম! এখান থেকেও তুলে দিল। এই অংশ নাকি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। :(
বাইরে এসে বসে আমিতাভ আর হবি অর্ডার দিলো সাদা ভাত, সবজি, মুর্গীর মাসল্লাম আর তাওয়া ফ্রাই না কি জানি; আর আশীষ দা ফালুদা। ওদের ভাত খাওয়া দেখে আমারো একটু ইচ্ছে ইচ্ছে করছিলো, তার উপর গরম ভাত কিনা! হে হে। তাই অমিতাভ এর অল্প একটু পামেই নির্দ্বিধায় হাত ধুতে গেলাম। এসে দেখি সবাই হাসতেছে! কাহিনী কী- পিযুষও কনভিন্সড! হা হা হা। আমি আর পিযুষ একটু ভাত খেলাম। খাওয়া দাওয়া নিয়ে কথার এক পর্যায়ে অমিতাভ বলে বসলো, 'আরে খান মিঠু ভাই, কী আর এমন বয়স হইছে আপনার!' পরিবেশ টা এমনি ছিলো যে হাসতে হাসতে আমাদের অবস্থা খারাপ! এভাবে পুরা খাওয়ার সময় কয়েক দফা হাসাহাসি হলো এটা নিয়ে। :) অমিতাভ বলছিলো আমার ওয়াল এ লিখে দিবে! বেচারা হেভী মজা পাইছে! এভাবে গল্পগুজবের মধ্যে দিয়ে কিছুটা চোখের ক্ষুদা, আর কিছুটা অমিতাভ এর পাম- সবমিলায়ে খাবোনা খাবোনা করেও বেশ ভালই খেলাম। কারণ খাওয়ার পরে দেখি পেটে কোন জায়গা নেই! তারপরেও ফালুদা বলে কথা! দিলাম অর্ডার আমাদের ৪ টা। খাওয়ার সময় দেখা গেলো ওদের ৩ জনের টা শেষ, আমারটা তখনো অর্ধেক বাকি! হবির অবশ্য বদ্ধমূল ধারনা ছিলো আমি শেষ করতে পারব না। কিন্তু ওদেরকে কাচকলা দেখিয়ে শেষ করলাম শেষ পর্যন্ত! টেবিল থেকে উঠে তো আর হাটতে পারি না; পুরা লোডেড! অনেক কষ্টে অমিতাভ আর পিযুষ এর ঘাড়ে মাঝে মাঝে হাত রেখে হাটা দিলাম মেইন রোড এর দিকে; আর মুখে দিলাম এতক্ষন ধরে যত্ন করে রাখা পান। [পানটা রাখার কৃতিত্ব হবির।] রাত তখন প্রায় সোয়া বারোটা।
যাই হোক, একটা সিএনজি নিয়ে আমি রওনা দিলাম গুলিস্তান থেকে বাসার দিকে। আর ওরা রিকশা খুঁজতে গেলো। আমি বাসা পৌছে ওদেরকে এসএমস দিলাম, 'আমি পৌছাইছি, তোমাদের কী খবর'। রিপ্লাই পেলাম, ওরা সব তখনো রাস্তায়! রিকশা পেতে নাকি দেরী হয়েছিলো। অমিতাভকে ফোন দিয়ে হেভী একটা ভিলেনী হাসি দিলাম যে আমি গুলিস্তান থেকে বাড্ডা চলে আসলাম আর তোমরা এখনো রাস্তায়! এই হাসি শুইনা অমিতাভ বলে যে 'আপনারে অভিশাপ দিতাছি, আপনার কালকে পেট খারাপ করবে, খবর হয়ে যাবে ...'। শকুনের দোয়ায় গরু মরে না যখন বললাম তখন বলে, তাহলে গ্যাসট্রিক এর প্রব্লেম হবে, এসিডিটি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।' হা হা হা।
যাকগে, একটু ফ্রেশ হয়ে এসে ল্যাপ্পি তে যখন বসলাম রাত তখন ১ টা পার। কিছুক্ষন পর দেখি ফেসবুক নোটিফিকেশন মেইল...অমিতাভ আমার ওয়াল এ কিছু একটা লিখেছে! :)
পরে রাত তিনটার দিকে দেখি গ্যাস ফর্ম করছে হাল্কা। আমার আবার গলব্লাডার নাই কিনা! :) সাবধান হয়ে গেলাম। অমিতাভ এর কথা যেন আবার সত্য না হয়ে যায়, তাই আর আজকে দুপুর পর্যন্ত কিছু খেলাম না, শুধু ১২ টার দিকে এক কাপ র চা। এর পরে ৩ টায় সামান্য একটু ভাত। দিব্ব্যি সুস্থ আছি! অমিতাভ, তুই বেটা মর গিয়া!
:D :D হা হা হা।