কয়েকদিন আগের ঘটনা।
দুপুরবেলা বের হয়েছি বাসা থেকে, অফিসে যাবো। ২/৩ জন রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করার পর একজন যেতে রাজী হল, তবে এই শর্তে যে সে অফিস এর গলিতে ঢুকবে না; মেইন রোড এ নামতে হবে। আমার হাতে সময় কম, রাজী হলাম। যাওয়ার পথে জিজ্ঞেস করলাম কেন উনি ভিতরে ঢুকতে রাজী না। প্রথমে বলতে না চাইলেও পরে বললেন কারনটা।
সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ আর গ্রামীনফোন পাশাপাশি। উনি সাহাবুদ্দিন এ ওয়ার্ডবয় এর কাজ করেন। আগের দিন তার নাইট ডিউটি ছিল, আজকে বন্ধ। সকালে বাসায় গিয়ে কয়েকঘন্টা ঘুমিয়ে আবার রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন দুপুরে, কিছু অতিরিক্ত উপার্জনের আশায়; ছেলে-মেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে আর একটু স্বচ্ছল থাকার আশায়! কিন্তু, যদি মেডিকেল কলেজের কারো সঙ্গে দেখা হয়ে যায়... এই দ্বিধায় তিনি অফিস এর গলিতে ঢুকতে চান নি।
শুনে ভাল লাগলো, একটা শ্রদ্ধাবোধ জন্মালো।
ভদ্রলোকের নামটা জিজ্ঞেস করেছিলাম কিনা মনে পড়ছে না বা জিজ্ঞেস করলেও এখন খেয়াল নেই। জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার, আর একটু এগিয়ে যাওয়ার নিরন্তর এই চেষ্টাটা দেখে খুব ভালো লেগেছে। এবং আমি নিজে সহ আমার মত আরো অনেকে যে চরম অলস আর মোটেই পরিশ্রমী না, সেটা আর একবার উপলব্ধি করলাম সেদিন!
2 comments:
kahini pore apnar kothai age mone hoyeche amar! :)
:)
Post a Comment