ক্যাটাগরীঃ গল্প
______________________________________
৭/৮ টি সাইকেল। আমরা মানুষ ৯/১০ জন। ক্ষুদে সাইক্লিষ্টস্। ৮ম থেকে ১০ম - এই তিন বছর। কখনও স্কুল ছুটির পর আবার কখনও বা ক্লাস ফাঁকি দিয়েই বেরিয়ে পড়তাম আমরা, অজানার উদ্দেশ্যে, আমাদের চিরচেনা অঞ্চলটাকে আরও ভালভাবে চেনার জন্য। কারন কবিগুরু যে বলে গেছেন!
" দেখা হয় নাই দুই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু "
কবিগুরুর কথা ফেলি কি করে! তাই আমরা প্রায়ই বের হতাম। মোন্তা’র ভাষায় "প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে, প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে একাত্ম হয়ে যেতে।" এর নাকি প্রয়োজন আছে! প্রকৃতি বিশারদ ড: মোন্তাছির রহমান মোন্তা যখন বলেছেন তখন অবশ্যই প্রয়োজন আছে মানতে হবে। যাই হোক, কবি গুরুর খাতিরেই হোক আর প্রকৃতির সৌন্দর্য অবলোকন করতেই হোক, আজ এ জায়গা, কাল সে জায়গা, কখনও বা অনেক দূরে আমরা ঘুরতে যেতাম। আমাদের এলাকার গন্ডি পেরিয়ে রায়গঞ্জ, ভূরুঙ্গামারী, সোনারহাট ব্রিজ, ফুলবাড়ী...কোথায় পড়ে নি আমাদের সাইকেলের চাকার স্পর্শ!
এমনি এক দিন। আমরা গিয়েছি পূর্ব শুখাতির দিকে। সাইকেল থামিয়ে হাটছি। হঠাৎ মাইদুল বলে, ওর ২ নাম্বার (বড় টা) চাপ দিয়েছে! ভাগ্যিস সামনেই একটা বাড়ি ছিল। গেলাম সেখানে। বাড়ি থেকে বের হওয়া লোকটির সঙ্গে কথা বলছিল মাইদুল।
মাইদুল : ভাই, বাথরুমে যাব একটু।
লোকটি : (আমতা আমতা করে) বা-থ-রু-ম, মানে, কী জিনিস ভাই ?
মাইদুল : ভাই, টয়লেট।
দূর্ভাগ্যবসত লোকটি এবারও বুঝতে পারছে না, আর এদিকে তো বেচারা মাইদুলের দফা রফা - যায় যায় অবস্থা ( দোস্ত্, কিছু মনে করিস না )। শেষ চেষ্টা হিসেবে মাইদুল বলল, "ল্যাট্রিনে যাব"। এবার,
লোকটি: ও আচ্ছা, ল্যা-প-টিন। আছে, আছে, আসেন।
তারপর ? (ঢ্রি-স, ঢ্রি-স...)। ঔং শান্তি। ঔং শান্তি। জগত বড়ই প্রশান্তিময়!!!
2 comments:
মিঠু ভাই, নিজের কথা অন্যের উপর দিয়া চালাইলেন মনে হইল ;)
না, ঘটনা সত্যি!
:)
Post a Comment